Thursday, December 12, 2019

Dhaka University 52th convocation and me

আলহামদুলিল্লাহ!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন ২০১৯ শেষে যা পেলাম।












Artist Monirul Islam and calligraphy

একটি ক্যালিগ্রাফি বই ও একজন শিল্পী : কিছু স্মৃতি কিছু কথা

বহু বছর আগে, ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহ করি অনেক জরুরী খরচ বাঁচিয়ে। নিউ মার্কেটের জিনাত লাইব্রেরিতে একটা বই পেলাম, প্রায় দশ হাজার টাকা দাম সেটার। কি করি! বইটা খুব পছন্দ হয়ে গেল। বহু কষ্টে হাজার দুয়েক টাকা জোগাড় করে বায়না দিয়ে আসলাম। একমাস পর গিয়ে আরো কিছু টাকা দিয়ে আসলাম। তারপর প্রায় তিনমাস পরে বইটা আনতে পারলাম। সেই বইয়ে বাংলাদেশের স্পেন প্রবাসী শিল্পী মনিরুল ইসলামের কথা জানতে পারলাম। তখন ইন্টারনেটের খোঁজ পাই নাই। শিল্পী মনিরকে দেখার খুব আগ্রহ। তারপর হঠাৎ একদিন জানতে পেলাম ধানমন্ডির একটি গ্যালারিতে তাঁর শিল্পকর্মের প্রদর্শনী। সেখানে গিয়ে তাঁর দেখা পেলাম না। পরদিন সন্ধ্যায় তার সাথে দীর্ঘ আলাপ হল। দৈনিক সংগ্রামে সেই সাক্ষাতকার ছাপা হল। এরপর ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনিতে তাঁর দুটো শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য আনলাম ধানমন্ডিতে তাঁর ফ্লাটে গিয়ে। যতবার তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়েছে, ততই ভালবাসা আর শ্রদ্ধা মুগ্ধতা গাঢ় হয়েছে।
আল্লাহপাক তাঁকে নেক হায়াত দান করুন।
ছবি- আমার আর্কাইভ ও নেট থেকে নেয়া।








calligraphy competition

ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা:
ক্যালিগ্রাফি কলম দিয়ে ক্যালিগ্রাফি করেন, তাদের জন্য সুখবর !!
বাংলাদেশ ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। একটি পুরস্কার দেয়া হবে।
রবিউস সানি ১৪৪১ মাসের ১ম প্রতিয়োগিতায় অংশ নিয়ে জিতে নিন ৫০০/- (পাঁচশত টাকা)
নিয়মাবলী :
১. ক্যালিগ্রাফি কলম দিয়ে ১৫-২০ ইঞ্চি কাগজে যে কোন কালি দিয়ে লিখতে হবে।
২. শৈলী- সুলুস জালী, আয়াত- ছবিতে দেয়া আছে
৩. গোলাকার বা ডিম্বাকার শেইপে করতে হবে
৪. ২৫ রবিউস সানী ১৪৪১হিজরী মাগরিব পর্যন্ত কাজ পাঠানোর শেষ সময়।
৫. কাজের ভালো রেজুলেশন (জুম করে কলমের স্ট্রোক যাতে বুঝা যায়) ছবি আমার ইনবক্সে পাঠাবেন।
৬. ২৭ রবিউস সানী ১৪৪১হিজরী বাদ মাগরিব ফল প্রকাশ করা হবে। সবার ক্যালিগ্রাফির ছবি দেখানো হবে।
৭. ২৮ রবিউস সানী ১৪৪১হিজরী পুরস্কার দেয়া হবে।
৮. যোগাযোগ : ০১৮১৯৬৭৬০২৭


Friday, November 1, 2019

Alif of arabic calligraphy : the miracle of beauty

ক্যালিগ্রাফির আলিফ : রহস্যময় সৌন্দর্যের আকর


শৈশবে ক্যালিগ্রাফিতে আকৃষ্ট হওয়ার যতগুলো কারন ছিল, ক্যালিগ্রাফির আলিফ হরফটি তার মধ্যে অন্যতম। মকতবে সুর করে পড়া হত- আ আ আ ইন ইন্নাল্লাহ আ ইন, আ ইন মিনাল উ ই আ, আ লেমান আ ই উ.. এরপর আনামিলা আনাসিয়া আ-লিফুল আ- লাইয়া, আনিবুয়া আলিবুরা আ-লাতুন আখিইয়া...
উস্তাদজি খুব সুন্দর করে মোটা পুষ্ট বলিষ্ঠ একহাত লম্বা একটা আলিফ বোর্ডে লিখতেন আর আমরা হেলে দুলে সুর করে পড়তাম.. আনামিলা.. আনাসিয়া..
সেটা একটা ঘোরের মত আমাদের আবিষ্ট করতো আর আলিফ হরফটির প্রতি মমতা ভালবাসা গাঢ় হতো। এখন মকতবে এমন করে পড়ায় কি না জানি না।
যখন মাদরাসায় খোশখত হুজুরের কাছে আলিফ লেখার তালিম নিতে শুরু করলাম, তিনি কলমের সাথে আলিফের শেকলি মেসাল দেখিয়ে বললেন, কলম গুইয়াদ কেমান শাহে জাহা নম, কলম কেসরা বদৌলত মিরসা নম।
আহা! কী গভীর গহীন কথা!! এক ভিন্ন জগতে পা রাখা শুরু হলো। আরো জানলাম- কুল্লু ইলমিন মিনাল আলিফ ওয়াল আলিফু মিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা!
-খুজিল খত্ত বি হুসনিল আলিফ।
সুতরাং আলিফকে সুন্দর করে লেখা শুরু হল।
এরপর উস্তাদ মুহতারম শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রহ. আলিফ দরস দেয়ার সময় বললেন- আল খত্তু হানদাসাতুন রুহানিয়াহ, কয়ইদুহু বি আলাতিন জিসমানিয়াহ। ব্যস, আধ্যাত্মিকতার এক রহস্যময় জগতে আলিফের চর্চা শুরু হল। খাতার পর খাতা দিস্তার পর দিস্তা শুধু আলিফ লিখেই ফুরিয়ে গেল, কিন্তু তৃষ্ণা মেটে না।
যত বড় ক্যালিগ্রাফার তাঁর আলিফটি তত রহস্যময়। হজরত আলী রা. থেকে ওস্তাদ বাগদাদী পর্যন্ত সবাই আলিফ হরফকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ক্যালিগ্রাফির জনক ইবনে মুকলা(মৃ. ৯৪০ই.) আলিফকে সকল হরফের মূল ভিত্তি করে আবিস্কার করলেন "আল-খত আল-মানসুব"। সেখান থেকে ক্যালিগ্রাফির বুনিয়াদী শিক্ষায় অত্যাবশ্যকীয় পাঠ্যসূচিতে "মিজান আল-খত" যুক্ত হল।
সুতরাং একজন ক্যালিগ্রাফারের জীবনে আলিফ হরফ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ক্যালিগ্রাফির সমস্ত আধ্যাত্মিকতা যে আলিফ হরফকে বেষ্টন করে আছে তা বিখ্যাত ফার্সি কবি মওলানা রুমীর আধ্যাত্মিক উস্তাদ শামস তাবরেজির(মৃ. ১২৪৮ ই.) উক্তিতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, সমস্ত রহস্য আলিফ হরফকে ঘিরে, আর অন্যসব হরফকে সৃষ্টি করা হয়েছে আলিফকে ব্যাখ্যা করার জন্য, তবু আলিফের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয় নাই।
ছবি- বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফারের করা আলিফ হরফ।























Saturday, October 19, 2019

Calligraphy and Spirituality



ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিকতা


একদিন মাগরিবের পর একাকি বাসায় জানালা দিয়ে আকাশ দেখছি। বিদ্যুত নেই। চারদিক সুনসান। আকাশে ধুসর অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে। সেখানে আবাবিল আর চামচিকের ঝাঁকেরা তাদের সান্ধ্য আহারে ব্যস্ত। আমি দেখছি তাদের প্রাণোচ্ছল ওড়াউড়ি। কী সুন্দর ! বাতাসে ভেসে হেলেদুলে চলছে আর গোত্তা খেয়ে বাক নিয়ে ফিরে আসছে। তা দেখে শৈশবের ঘুড়ি উড়াবার কথা, বর্ষার নতুন পানিতে খলসে মাছের খলবল সাঁতারের ছবি মনে ভেসে উঠে। কখন যে এশা ঘনিয়ে আসলো টের পাইনি। মহল্লার মিনার থেকে আযান শুনে ঘোর কেটে যায়।
এশার নামাযে সুরা ইউসুফের বয়ানের সুরে তেলাওয়াত যেন ক্যানভাসের রঙিন জমিনে হরফের দোলায়িত ছন্দ হয়ে ভেসে ওঠে মনের গহীনে।
২০০৯ সালে তেহরানের ক্যালিগ্রাফি মিউজিয়ামে গিয়ে এমনই হারিয়ে গিয়েছিলাম ক্যালিগ্রাফির ভূবনে। রঙ আর রেখা যেন আকাশের বিশাল জমিনে পাখিদের উচ্ছল উড়াওড়ি। এই যে অনুভব ক্যালিগ্রাফিতে আমাদেরকে মগ্ন করে, তেপান্তরের দূর সীমানায় মন ছুটে যায়, নিজের ভেতরে নিজেকে খুঁজে ফেরা কী দিয়ে বুঝানো যায় !!


ছবি- নেট থেকে নেয়া ইরানী ক্যালিগ্রাফি।








Monday, October 14, 2019

Tasweed : Daily practice of a Calligraphist


ক্যালিগ্রাফির তাসউইদ : ক্যালিগ্রাফারের আমলনামা

গত শতকের নব্বই দশকের কথা। ওস্তাদ শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রহ. তখন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের বিপরীত পাশের ভবনে দারুল ফুনুন নামক অনুবাদ ও আরবি লেখালেখির প্রতিষ্ঠানে বিকেলে বসতেন। প্রতিষ্ঠানটি উনার নিজের। সেখানে প্রায় প্রতিদিন খত শিখতে যেতাম। আর ফজর বাদ কুরআন তেলাওয়াত করে ঘন্টা দেড়েক মগবাজারের মেসে বসে হরফ মশক করতাম। এভাবে খাতার পর খাতা হরফে ভরে যেত। তখন থেকে ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহ করা শুরু করলাম। একদিন এরকম একটি খতের কিতাবে মশক বিষয়ক লেখা পেলাম। তখন জানতে পারলাম, মশক করা কাগজকে তাসউইদ বলে। পরে তুরস্কের বইপত্রেও এটা দেখলাম। সেখানে একে বলে কারালামা। এর অর্থ- কালি দিয়ে কাগজ পূর্ণ করা বা ক্যালিগ্রাফারের মশক করা কাগজ।
পৃথিবীর সব ক্যালিগ্রাফার এটা প্রতিদিন করে থাকেন এবং এতে নাম ও তারিখ লিখে থাকেন, আর এগুলো সংরক্ষন করেন। ফলে পরে পুরনো মশক দেখে বুঝা যায় লেখার কতটা অগ্রগতি হল।
ছবি- আমার মশক করা একটি তাসউইদ পাতা










Who is the inventor of Diwani calligraphy style ?




খত্ দিওয়ানীর আবিস্কারক কে??

খত্ত দিওয়ানী ১৪ শতকের শেষ দিকে তুরস্কে ওসমানী খেলাফত প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। প্রাথমিক ভাবে এটা ১২ শতকের রিকা খত্ত থেকে ১৪ শতকে সুলাইমান-১ এর আমলে ”হাওছাম রুমি” উদ্ভাবন করেন। তবে সরকারিভাবে এর আবিস্কারক হিসেবে ইবরাহীম মুনিফ (১৪৫৬ ই.) স্বীকৃত।
এটা তুরস্কের ওসমানী খেলাফতের সরকারী লিপি ছিল।

কুইজের জন্য উত্তর লিখবেন- ইব্রাহীম মুনিফ (৮৫৭ হি/১৪৫৬ই.), তুরস্ক।

ছবি- আমার করা দিওয়ানী ক্যালিগ্রাফি। ১৪৪১ হি. ।

দিওয়ানী ক্যালিগ্রাফি, ১৪৪১

Making Calligraphy : step by step

ক্যালিগ্রাফির ধাপগুলো 

আমরা ক্যালিগ্রাফি কলমে যখন একটি কাজ করার চিন্তা করি তখন কিছু বিষয় ভেবেচিন্তে ঠিক করে নিতে হয়।
এক. কোন আয়াত বা সুরা অথবা কথা দিয়ে ক্যালিগ্রাফি হবে।
দুই. নির্দিষ্ট টেক্সট এর ভেতর কোন সিমেট্রিকাল ফিচার আছে কি না। এমন কোন বিশেষ ব্যাপার যা ক্যালিগ্রাফিতে চোখ শীতল ও হৃদয় তৃপ্ত হবে।

তিন. কোন শৈলী এবং এর শেইপ কেমন হবে।৷ দিওয়ানী না কি সুলুস হবে। দায়রা না কি বায়দা শেইপ হবে।
চার. কলম তৈরি করা। প্রতিটি ইউনিক ক্যালিগ্রাফির সাইজ-শেইপ ও শৈলির জন্য কলম বানাতে হয়। হরফের পুরুত্ব এবং কম্পোজিশন অনুযায়ী কলমকে কেটে নিতে হয়।
পাঁচ. পেন্সিল দিয়ে লেআউট করতে হয়। কুরআনের আয়াত/ সুরা যাই হোক না কেন, কাগজে লিখে ফিচারগুলো চক আউট করতে হয়।
ছয়. ক্যালগ্রাফি কলমে লেআউটটি বার বার মশক করতে হয়।
সাত. ফাইনাল ক্যালিগ্রাফি করার পর তাশকিলাত ও তাঝয়িনাত প্রয়োগ করতে হয়।

আসুন আমরা মনের মত ক্যালিগ্রাফি করি।  
ছবি- সুরা নাস। বিখ্যাত শামসি কম্পোজিশনে, দায়রা শেইপে, বাহরি আল বাঙালা শৈলিতে করা। প্রস্ফুটিত ফুলের আকৃতি অনুভব হয়।






Featured Post

Calligraphy Class started for Biggeners

I started new year Calligraphy Class. Today is 2nd class. Any person of no boundary on ages, can learn calligraphy, if he or she interes...